খুল্লামখুল্লা চিরঞ্জিত, প্রসেনজিৎ সম্পর্কেও অকপট বিধায়ক-অভিনেতা

রাজকুমার মণ্ডল, কলকাতা : মুখোমুখি একান্তে দুই টলিউড তারকা। চিরঞ্জিত ( Chiranjit Chakraborty ) এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় বসলেন আড্ডার আসরে। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার চিরঞ্জিত খুল্লামখুল্লা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর পর্বে। আঁকতে দারুন ভালোবাসেন অভিনেতা চিরঞ্জিত। এবং তার আঁকা ছবি অসাধারন তকমা পায় সবসময়। চিরঞ্জিত বলেন, এটি তার জন্মগত, কারণ বাবাকে তিনি ছোটবেলা থেকেই আঁকতে দেখতেন। চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর( Chiranjit Chakraborty ) পিতা ছিলেন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট শৈল চক্রবর্তী। কার্টুনিস্ট শৈল চক্রবর্তীর কাছের মানুষ ছিলেন মানিক দা অর্থাৎ সত্যজিৎ রায়। সত্যজিৎ রায় ছাড়া তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি সন্দেশ পত্রিকার প্রচ্ছদ শিল্পী ছিলেন। ছেলে চিরঞ্জিত চক্রবর্ত্তী অভিনয়ে পা রাখলেন কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে।
অভিনেতা চিরঞ্জিত অকপটে জানালেন,“আমি ডিরেক্টরদের স্ক্রিপ্ট পড়ে শোনাতাম কিন্তু যখন আমার স্ক্রিপ্ট খুব ইন্টারেস্টিং জায়গায় চলে যেত তখন দেখি তারা ঘুমিয়ে পড়ছেন। আমি তখন বুঝেছিলাম যে এইভাবে হবে না।” পরে তিনি নায়কের( Chiranjit Chakraborty ) আসনে অধিষ্ঠিত করলেন নিজের অভিনয় দক্ষতায়। নায়ক হিসেবে উত্থান, এরপর তাকে আর পিছনে ফিরতে হয়নি। অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রতিদ্বন্দী ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের ডিরেক্টরিয়াল অবজারভারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। চিরঞ্জিত মনে করেন বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো স্টার নেই। কারণ স্টারডম থাকা অভিনেতা কখনো প্রডিউসারের পিছনে ঘোরে না। স্টারডম থাকা অভিনেতা ডিরেক্টরের পিছনে ঘোরে। তাই সরাসরি বলেই বলে ফেললেন বাংলায় ইংরেজিতে এখন এমন কোন আর্টিস্ট নেই যে প্রোডিউসারের পিছনে না ঘুরে ডিরেক্টরের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে আলোচনা করেন। বললেন বিধায়ক-অভিনেতা চিরঞ্জিত।
আরও পড়ুন এবার বড়পর্দায় তৃণা সাহা, সৃজিতের ছবিতে পরমব্রতর সঙ্গে ছোটপর্দার ‘গুনগুন’
বর্তমানে বাংলা সিনেমার ব্যাবসা নেই বললেই চলে। বছরে দু-একটা ছবি খুব ভালো ফল না পেলেও,মাঝারি দর্শক সাপোর্ট পায়। চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন বিশেষ টার্গেট হল দর্শক। যারা বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতেন তারা এখন টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির ফ্যান। এখনকার অভিনেতারা শুধুমাত্র টেলিভিশনের জন্যই বেঁচে রয়েছেন। চিরঞ্জিতের অন্যতম সেরা ছবি ‘বেদের মেয়ে জোৎস্না’। যা দেখে সত্যজিৎ রায় পর্যন্ত স্বীকার করেছিলেন যে ছবিটির মত এমন কিছু একটি আছে যা এত দর্শককে নাড়িয়ে দেয়। প্রায় ৩২ কোটির ব্যবসা করে সিনেমাটি। আর এখন দেব বা জিৎ স্টার হতে পারে না কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের ছবি প্রোডিউস করে। তিনি বলেন স্টার হতে গেলে রাজেশ খান্নার মতো হতে হয়। তার মতে সংবাদপত্রের প্রতিদিন চর্চা, ইন্টারভিউ এগুলি স্টারডমের ক্ষতি করে। চিরঞ্জিত চক্রবর্তী( Chiranjit Chakraborty ) নিজেও একসময় সেই স্টারডম পেয়েছিলেন কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি একথা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ও প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জ্জী বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দ্বৈরথ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একা ৩০ বছর রাজত্ব করেছেন প্রসেনজিৎ। সেই প্রসঙ্গে চিরঞ্জিত বলেন,“ আমি বা অন্য কেউ কি তখন ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল না, আমরা কি কাজ করছিলাম না? এটা আসলে এক ভাবে প্রচারের আলোয় আসা। ও খুব সফল একজন ব্যক্তিত্ব এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই এমনকি ইন্ডাস্ট্রির নাড়ি-নক্ষত্র চেনে ও। ও প্রচণ্ড ইনফ্লুয়েন্সিয়াল। ওর বিরুদ্ধে ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো কথা বলা যায়না”
আরও পড়ুন অরুণিতা-পবনদীপ রোমান্স, ‘পহেলা নশা’ র রোমান্টিক জুটির চর্চা তুঙ্গে